স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য চর্চায় জাদুকরী প্রোডাক্ট ইপসোম সল্ট

সৈয়দা জাকিয়া সুলতানা, লন্ডনঃ যুক্তরাজ্যের ইপসম এলাকায় এর উৎপাদন বলে একে ইপসোম সল্ট বলে ডাকা হয়। খাবারে যে লবণ খাই তা ইপসম লবণ নয়। এর নাম যদিও সল্ট বা লবণ কিন্তু এটি লবণ না। এর ব্যবহারে রয়েছে অনেক ধরনের স্বাস্থ্যগত ও সৌন্দর্য চর্চায় উপকারিতা। সারা বিশ্বে ১৬১৮ সাল থেকে এর ব্যাবহার রয়েছে।

এটা এক ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ মিনারেলের যৌগ যা মাটির নিচের খনি থেকে প্রাপ্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট খুব দ্রুত ত্বকে ঢুকে যায়। এটি একটি যাদুকরী পন্য যা একের মধ্যেই মন ও শরীরের থেরাপিউটিক সমাধান (Mind & Body Therapeutic Solution) রয়েছে নিহিত।

সারা বিশ্বে যে কয়েক ধরনের বাথ সল্টের প্রচলন রয়েছে, তার মধ্যে একে সর্বোৎকৃষ্ট বাথ সল্ট বলা হয়। এ ইপসোম সল্ট আজকাল খেলাধুলা ও ব্যায়ামের পরে পাশ্চাত্যে অত্যাবশ্যকীয় একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে। সাধারন মানুষ এর ব্যাবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই বাথ সল্ট হিসেবে এটি ব্যাবহারের জন্য সাধারণত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের দরকার হয় না। ব্রিটেনে বিভিন্ন সুপার সপ, ফার্মেসীতে ও দোকানে পাওয়া যায়। উপমহাদেশে এর ব্যাবহার সম্পর্কে সর্বসাধারণ না জানলেও চিকিৎসকরা ইদানিং ভারত ও বাংলাদেশে তাঁদের প্রেসক্রিপশনের নোটে লিখে দিচ্ছেন এবং ইন্টারনেটের বদৌলতে বাংলাদেশে মানুষও এ ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান পাচ্ছেন।

বাজারে দুই ধরনের গ্রেড পাওয়া যায়: ১) ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড /সার গ্রেড, ২) বিপি গ্রেড/ফুড গ্রেড।  

১) ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড /সার গ্রেড: গাছের সার হিসেবে এর ব্যাপক ব্যাবহার আছে। এটা মানুষ বা প্রাণীর  ব্যবহার উপযোগী নয়। সাধারনত একে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট বা সংক্ষেপে ম্যাগ-সাল/ ম্যাগ সার বলা হয়ে থাকে।

২) বিপি গ্রেড/ ফুড গ্রেড: এটা মানুষ বা প্রাণীর জন্য। গোসলের সময় এটি ব্যাপক ভাবে প্রচলিত বিদায় একে বাথ সল্ট নামেও ডাকা হয়। বিভিন্ন রোগের ঔষধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে মেডিসিন শিল্পে এর ব্যাপক চাহিদা আছে। এটা খনিজ পদার্থ হিসেবে প্রাকৃতিক খনি থেকে হয় আবার কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা যায় ল্যাবরেটরীতে। প্রাকৃতিকভাবে খনি থেকে উত্তোলিত যেটা সেটার কার্যকারিতা বেশি, তবে দাম বেশী। এ গ্রেড গাছ ও মাছের জন্য ও ব্যাবহার করা যায়।

বিপি গ্রেড/ ফুড গ্রেডের ম্যাগনেসিয়াম সালফেটকে ইপসোম সল্ট হিসেবে ডাকা হয় এবং বিশ্বে এ নামকরন বেশি গ্রহনযোগ্য। বাংলাদেশে অনেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড /সার গ্রেডকে ইপসোম সল্ট হিসেবে ডাকার চেষ্টা করলেও এটা আসলে সারা বিশ্বে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার ( Magnesium Sulfate Fertiliser )  নামেই সমাদৃত ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার নামে ডাকাই শ্রেয়। ব্যাবহারের ভিন্নতা থাকায় আলাদা নামকরনই মানুষের জন্য সহজ হবে।   

( বাকী অংশ ছবির নীচে পড়ুন )

5060559600132
ছবিঃ Pink Tulip 100% Epsom Salt

ইপসম সল্ট এর উপকারিতা-
ইপসোম সল্ট ১০১ ধরনের উপকার করে। যেমন
১। কোমর,হাঁটু, গোড়ালি,হিল,পেশী ও শরীরের অন্যান্য স্থানের ব্যাথা কমায় ও ব্যাথা হওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়। মাইগ্রেন এর মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যাথা ও অস্বস্তি উপশম করে ।
২। এর সালফেট শরিরের দূষিত পদার্থ গুলোকে বের করে দেয় ( ডিটক্স – Detox) ও শরিরে পুষ্টি শোষিত করে এবং খাদ্যকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে। শরিরের ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেটের লেভেলকে বুস্টিং করে।

৩। এর ম্যাগনেসিয়াম মাংসপেশি ও নার্ভাস সিস্টেমকে শিথিল করে (রিলেক্স/ Relax) এবং কার্যকারিতা বাড়ায়।৪। এর ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ (স্ট্রেস/ Stress), অবসাদ বা মন খারাপকে দূর করে মনকে চাঙ্গা করে ও শরীরকে শান্ত ও রিলাক্স করে। ( বাকী অংশ ছবির নীচে পড়ুন )

৫। ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট শরিরের ইন্সুলিন কে সঠিক ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে ফলে ডায়াবেটিস এর লেভেল কে কমিয়ে রাখে।

৬। হার্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অনিয়মিত হার্টবিট (হৃদকম্পন) নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সহয়তা করে ও শরীরের ওজন কমিয়ে শরীরকে সচল করতে সহায়তা করে।
৭। ত্বক: ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। পানির সাথে কিছুটা Epsom Salt মিশিয়ে আপনার ত্বকে রাব করলে সানবার্নই দূর করবে না, ত্বককে করবে মসৃণ, উজ্জ্বল, নরম এবং দিবে পর্যাপ্ত পরিমাণ আদ্রতা বা মশ্চারাইজ। ত্বকের চুলকানি থেকে মুক্তি দেয়।ব্রনের চিকিৎসায় কাজ করে। স্প্লিন্টার অপসারণে সাহায্য করে।
৮। নিদ্রাহীনতা, এনজাইটি, ডিপ্রেশন সহ অন্যান্য মানসিক রোগে সহায়তা করে
৯। শরীরের ডেড সেল দূর করতে সাহায্য করে। ইপসোম সল্ট এ বাথ অয়েল বা ক্যারিয়ার অয়েল দিয়ে শরীর এবং মুখে এক্সফলিয়েট করা যায়।
১০। ব্ল্যাকহেড: আধা কাপ গরম পানিতে ১ চা চামচ ইপসোম সল্ট, ৩ ফোটা আয়োডিন মিশিয়ে, তুলার সাহায্যে ব্ল্যাকহেড এর উপর দিলে ব্ল্যাকহেড দূর হয়।
১১। এক গামলা পানিতে ৪- ৬ চা চামচ ইপসোম সল্ট দিয়ে, ১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয় ও পায়ের রুক্ষ ত্বককে নরম করে। ৩০ মিনিট রাখলে পায়ের ব্যাথা কমে।
১২। প্রেগ্নেন্সি বা অন্য কোন কারনে হাত- পা বা দেহের অন্য কোন অংশ ফুলে গেলে ( Edema ) সহায়তা করে।
১৩। বিভিন্ন প্রসাধনী যেমনঃ স্ক্রাব, ফেস ওয়াস, সাওয়ার জেল, লোসন তৈরিতে ব্যবহারিত হয়।
১৪। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এর অভাবে মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে তা দূর করে এবং তা হতে বাধা দেয়
১৫। নখে ফাঙ্গাল সমস্যা থাকলে পানিতে ই্পসোম সল্ট দিয়ে নখ ভিজালে ফাঙ্গাল সমস্যা দূর হয়।
ডাক্তারের পরামর্শেঃ
১৬। শরীরে চিকনগুনিয়া বা অন্য কারনে ম্যাগনেসিয়াম সালফেটের ঘাটতি দেখা দিলে
১৭) গল ব্লাডার ও লিভার ক্লিঞ্জিং এ
১৮) ইনফেকশন দুরীকরনে গরম পানিতে মিশিয়ে ব্যাবহার করা হয়। ( বাকী অংশ ছবির নীচে পড়ুন )

Pink Tulip SPA BATH 100% EPSOM SALT, BARCODE: 5060559600132
ছবিঃ Pink Tulip 100% EPSOM SALT

অন্যান্যঃ
১৯) গাছের ও মাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখায় এর ব্যাবহার রয়েছে।

গোসলে কিভাবে ব্যবহার করবেনঃ
এক বালতি পানিতে ৬ থেকে ১০ চা চামচ সল্ট মিশ্রণ করুন,সল্ট পানিতে মিশে গেলে ২০ মিনিট শরীর ভিজিয়ে গোসল করুন। সপ্তাহে ১- ৩ বার করতে পারেন।

সতর্কতাঃ  শীতল ও শুকনো জায়গায় বোতলের সিল লাগিয়ে রাখুন, কারণ সময়ের সাথে সাথে লবণে আর্দ্রতা আকর্ষণ করতে পারে। মেডিক্যাল কন্ডিশসন, গর্ভবতী, বুকের দুধ খাওয়ানো বা খুব সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কাটা বা ফাটা ত্বকে ব্যবহার করবেন না। চোখের সংস্পর্শে না আসে তার জন্য সাবধান থাকুন। চোখে জ্বালা দেখা দিলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি এটি অব্যাহত থাকে তবে চিকিত্সার সহায়তা নিন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

কোথায় পাবেনঃ বাংলাদেশে কয়েকটি ব্রেন্ডের যেমনঃ পিঙ্ক টিউলিপ্ ( Pink Tulip) বাইও এক্সপার্ট ( Bio Expert), ইউনিফাই বিউটি ( Unify Beauty) ইপসোম সল্ট পাওয়া গেলেও ব্রিটেনের পিঙ্ক টিউলিপ ব্র্যান্ডেরটি সহজলভ্য ও ব্যাপক প্রচলিত। আপনার নিকটস্থ বড় বড় কস্মেটিক্স ও ঔষধের দোকানে খোঁজ নিতে পারেন। বেশকিছু অনলাইন শপফেইজবুক শপে পাবেন,যেমনঃ The Body & Beauty Shop , UK Products In Bangladesh,  Urmi’s Beauty Care,  Lifestyle Pro  , Zero Shop  ( শপগুলো ভিজিটের জন্য নামের উপর ক্লিক করুন)।    তাছাড়া দারাজ, প্রিয়সপ ও আজকেরডিলেও পাবেন।

 

লেখকঃ সৈয়দা জাকিয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য বিষয়ক পেশাজীবী, লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here