নতুন ইস্যু নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বরিস!!

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি চান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। চলতি সপ্তাহেই নিজের প্রথম বিদেশ সফরে জার্মানি ও ফ্রান্স যাচ্ছেন তিনি। সফরকালে দেশ দুটির নেতাদের কাছে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন। তবে চুক্তি হোক বা না হোক আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রিটেন ইইউ ছাড়বে বলে আসছেন তিনি।

ইইউ নেতারা বরিসের এই নতুন চুক্তির দাবি নাও মানতে পারেন। এজন্য নিজ দেশবাসীকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট মেনে নেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী দলগুলোসহ ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির বিদ্রোহী এমপিরা।

এদিকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ‘দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ নিজ প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিতে আরেকবার আহ্বান জানিয়েছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। গত সপ্তাহে বরিসকে উৎখাত করে তাকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারে’র প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দেন তিনি।

করবিনের প্রস্তাব মতে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই একটি আগাম নির্বাচন ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে আরেকটি গণভোট করবে তার সরকার। খবর রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।

এদিকে সানডে টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে নানামুখী সংকটে পড়বে ব্রিটেন। এমন আশঙ্কার কথাই উঠে এসেছে ফাঁস হওয়া ব্রিটিশ সরকারের এক নথিতে।

ফাঁস হওয়া ওই নথিতে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত নো-ডিল ব্রেক্সিট বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট কার্যকর হলে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধ সংকটে পড়বে যুক্তরাজ্য। এছাড়া আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে।

একটি বাজে চুক্তির চেয়েও চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আরও সংকটময় হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর সদস্য পদ না থাকায় ফ্রান্সের ভূখণ্ড ব্যবহারকারী লরিগুলোকে বাড়তি নিয়ম মেনে চলতে হবে। অথচ ফরাসি নিয়ম সম্পাদন করে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেই ৮৫ শতাংশ লরি-র। প্রক্রিয়াগত জটিলতায় এগুলোর গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ব্রেক্সিট নিয়ে এ সপ্তাহেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ইউরোপীয় নেতাদের তিনি জানিয়ে দেবেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট থেকে সরে আসতে পারে না আর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট চাইলে অবশ্যই নতুন একটি চুক্তি করতে হবে। দৃশ্যত এ নিয়ে নিজ দেশেই রাজনীতিকদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বরিস জনসনকে।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিরোধীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সরকার নো ব্রেক্সিট ডিলের দিকে অগ্রসর হলে সেটি একটি দুর্যোগে রূপ নেবে। এই বিচ্ছেদ শুধু যুক্তরাজ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে; এমন নয়। এটি বরং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে লন্ডনকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

গত জুলাইয়ে পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে নো-ডিল ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি বলেন, নো-ডিল ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এটি জনগণের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ৭ জুন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতার পদ থেকে তেরেসা মে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে রক্ষণশীল দল।

নতুন নেতা তথা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। এর মধ্যেই চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে গোপন সরকারি নথি ফাঁস করলো সানডে টাইমস। সূত্র: সানডে টাইমস, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here