জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় নাগরিকত্ব হারাতে পারেন

ভারতীয় ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় স্থায়ী নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। সম্প্রতি তার কিছু মন্তব্যের জন্য মালয়েশিয়ায় তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

ইতোমধ্যেই জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদি এটা প্রমাণ হয় যে, জাকির নায়েকের মন্তব্য ও কাজকর্ম মালয়েশিয়া শান্তি ও সম্প্রীতিতে আঘাত করেছে তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন জাকির নায়েক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় তার স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিন মন্ত্রী তাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে শান্তি বিনষ্টের অভিযোগও আনা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মহাথীর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মালয়েশিয়া সরকার তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। কিছুদিন আগেই দেশটির সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন জাকির নায়েক।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত চীনা বংশোদ্ভূত নাগরিকদের আগে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন জাকির নায়েক। তাদের মালয়েশিয়ার পুরনো অতিথি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কেলানতানে এক ধর্মীয় আলোচনায় তাকে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলে এর জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের চেয়ে মালয়েশিয়ার সংখ্যালঘু হিন্দুরা ১০০ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার ৬০ শতাংশ মুসলিম বাদে বাকি ৪০ শতাংশ মানুষের অধিকাংশই চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তার এমন মন্তব্যকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবি তুলে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার মুসলিমদের সঙ্গে অমুসলিমদের দূরত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেছেন জাকির নায়েক।

জাকির নায়েক বলেন, মালয়েশিয়ার হিন্দুরা মাহাথীর মোহাম্মদের তুলনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বেশি অনুগত। জাকিরের এই মন্তব্যে ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশ তাকে জেরা করবে। প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি এরকম কাজের বিরুদ্ধে কোন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তবে সাম্প্রদায়িক চাপ বাড়বে। যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

জাতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাকির নায়েককে দু’দিন কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। গত তিন বছর ধরে স্থায়ী নাগরিকত্ব নিয়ে মালয়েশিয়ায় থাকছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দেখা গেছে তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জাতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন। এ নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here