শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শহর পেরিয়ে ডেঙ্গু এবার গ্রামে

রবিবার, ০৪ অগাস্ট ২০১৯ | ১০:৫৮ এএম | 163 বার

শহর পেরিয়ে ডেঙ্গু এবার গ্রামে

শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। পাওয়া যাচ্ছে এডিস মশার সন্ধানও। এমন অনেকেরই ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর মিলছে যারা শহরে যাতায়াত করেননি সাম্প্রতিক সময়ে। এ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে শঙ্কা বাড়ছে আরও। যদিও স্থানীয়ভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে মশা নিধন করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুসা কবির জানান, তার অভিজ্ঞতার কথা। এই চিকিৎসক বলেন, ‘আমার কাছে একজন রোগী আসেন। বাসার নিচতলায় থাকেন তিনি। হঠাৎ করে তিনি চিৎকার করে বলছেন তাকে এডিস মশা কামড় দিয়েছে এবং তিনি মশাটি মেরে রেখে দেন। পরে দেখা যায় ওই মশাটি বস্নাক এন্ড হোয়াইট। দেখলাম যে এটা বয়স্ক এডিস মশা।’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ওই চিকিৎসকের দুই সন্তানও। যারা ঢাকা বা অন্য কোনো ডেঙ্গুর ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় যায়নি গত কয়েক মাসের মধ্যে। তাহলে কীভাবে আক্রান্ত হলো তারা, তা নিয়ে তিনি নিজেই বিস্মিত। মুসা কবির বলেন, ‘এডিশ মশা কিন্তু তার জন্মস্থান থেকে ৪০০ মিটারের বেশি উড়তে পারে না। সেহেতু এটি ঢাকা থেকে আসছে বা অন্য কোথাও থেকে আসছে এমন নয়। আরও অনেক জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর আসছে। তাদের অনেকেরই শহরকেন্দ্রিক কোনো যোগাযোগই ছিল না। অর্থাৎ তারা শহরে যাওয়া-আসা করেনি বা তাদের আশপাশের কারও শহরে যাতায়াত ছিল না। ‘

কুষ্টিয়া হাসপাতালে কথা হয় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। একজন বলেন, ‘ঢাকাতে থাকে না, মুরুব্বি মানুষ, গ্রামে থাকেন। তিনিও ডেঙ্গু রোগে

\হআক্রান্ত হয়েছেন। কীভাবে হতে পারে বুঝতে পারছি না। তো আমি ডাক্তারকে প্রশ্ন করলাম। ডাক্তার বলছেন ডেঙ্গু সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে।’

রোগীর আরেক স্বজন বলেন, শরীরে জ্বর আসছে। টেস্ট করার পর জানা যায় ডেঙ্গু রোগ। পরে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। তারা এরই মধ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ্চ সামর্থ্য দিয়ে শুরু করেছেন মশক নিধন কার্যক্রম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর মেয়র নায়ার কবির বলেন, প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়, বাসায় বাসায় তারা মশক নিধনের ওষুধ দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ডেঙ্গু রোধে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির ওপরও।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার বলছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা বাড়লেও রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে গত দুদিন ধরে রোগী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৯৬৯ জন রাজধানীতে। তার আগে শুক্রবার ৯৯৬ জন এবং বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছিল এক হাজার ১৫০ জন। শুক্রবার ৬৯১ জন ভর্তি হয়েছিল দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে, শনিবার পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৬৮০ জন।

সব মিলিয়ে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৯০৫ জন। শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল চার হাজার ১৯০, বৃহস্পতিবার ছিল তিন হাজার ৪৬৪ জন। ঢাকার বাইরে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে দুই হাজার ৩৮১ জন, চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে দুই হাজার ৫২৪ জন।

এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৮ জনের মৃতু্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে মিটফোর্ড হাসপাতালে। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৯৮ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৬৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী।

এছাড়া ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৪২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৬৪, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২২৬, বারডেম হাসপাতালে ৭২, বিএসএমএমইউতে ১৪৩, পুলিশ হাসপাতালে ২০১, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১৯, বিজিবি হাসপাতালে ৩৩, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩৫৮ এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট চার হাজার ৪৭৭ জন ভর্তি আছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৭৮৩ জন। বাকি এক হাজার ৬৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

শনিবার ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ৩৮১ চিকিৎসা নিচ্ছে। শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৯৬৯।

রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২১৫ জন, তাদের নিয়ে মোট চিকিৎসাধীন আছে ৪২৮ জন।

এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ডেঙ্গু রোগী ১২৯ এবং চিকিৎসাধীন ৪৩২ জন, খুলনা বিভাগে নতুন ৬৩ এবং চিকিৎসাধীন ৪০৯ জন, রংপুর বিভাগে নতুন ৫৪ জন এবং ভর্তি ২১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগী ৬৯ জন, চিকিৎসাধীন ৩২৫, বরিশাল বিভাগে নতুন ৬৭ জন এবং চিকিৎসাধীন ১৯৭ জন, সিলেট বিভাগে নতুন শনাক্ত ৩১ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ১০০ জন এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন রোগী ৫২ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ২৭৭ জন।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): ঢাকার খুব কাছে হওয়াতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি রয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলায়। এরই মাঝে রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় জেলা (গ) সার্কেলের এএসপি, নারী ও শিশুসহ প্রায় শতাধিক রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার আল-রাফি হাসপাতালে ১৫ জন, ইউএস বাংলা হাসপাতালে ৩৫ জন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ১ জন, ডিকেএমসি হাসপাতাল লিমিটেডে ১৩ জন, মেমোরি হাসপাতাল লিমিটেডে ৪ জন, ভুলতা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন, মায়ের ছায়া জেনারেল হাসপাতালে ২ জনসহ প্রায় শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

নওগাঁ: নওগাঁয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে তারা বেশির ভাগই ঢাকা থেকে ফিরে আসা।। নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩০জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২০ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ।

রাজশাহী: ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে রাজশাহীতে বেড়েছে উদ্বেগ। বেড়েছে রাজশাহীর হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার চাপ। জ্বর, মাথাব্যথা হলেই মানুষ ছুটছে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য। তবে সেই সাথে বেড়েছে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতাও। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। বর্তমানে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৩ জন। এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬১ জন।

নাটোর : নাটোরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে আসা রোগী ছাড়াও স্থানীয়রাও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, নাটোর সদর হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১০ জন রোগী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৪ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬ জন রোগী। এদিকে শহরের বেসরকারি সততা ক্লিনিকে শনিবার সনাক্ত হয়েছে ২ জন। ওই ক্লিনিকে এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ২৩ জন। তবে আতংকের কারণ হলো স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়া।

ভোলা : ভোলা জেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলা হিসাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ইতিমধ্যে ভোলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলায় ১হাজার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। সরকারিভাবে ১২০টি ডেঙ্গু পরিক্ষার রিএজেন্ট পাওয়া গেছে। জেলায় সর্বশেষ ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। জেলার ৭উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেল গঠন করা হয়েছে।

ফরিদপুর : ফরিদপুরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৭৪ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৮ জন রোগী। তবে প্রতিদিনই জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফরিদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে প্রতিদিনই রোগী আসছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফরিদপুর জেলা সির্ভিল সার্জন জানিয়ছেন, শনিবার পর্যন্ত জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ১২৩ জন। এছাড়াও এ পর্যন্ত ১২ রোগীকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

কালকিনি (মাদারীপুর): ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরের কালকিনিতে নাদিরা বেগম-(৩৯) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। সে পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের আলমগীর মোড়লের স্ত্রী। নিহত নাদিরা গত তিন দিন পূর্বে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন খলিলুজ্জামান বলেন, এ পর্যন্ত মাদারীপুরে ৪৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ডুমুরিয়া (খুলনা): খুলনার ডুমুরিয়ায় এক নারী ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসার এক সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও এখনো পুরোটা সুস্থ হননি তিনি। সুস্থ হতে আরও কিছুদিন লাগবে বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। জানা যায়, উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামের কিশোর কবিরাজের স্ত্রী শিল্পী সরকার (২২) গত ১০ দিন যাবৎ ডেঙ্গু রোগে ভুগছেন। এদিকে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে ডুমুরিয়ার পশ্চিমপাতিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রাণময় মন্ডল (২৩) নামে এক পুলিশ সদস্য খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইনে থাকাকালীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

রামগঞ্জ (লক্ষ্ণীপুর): রামগঞ্জ, লক্ষ্ণীপুর সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলো ছাড়াও রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, উপজেলার লামচর, দাসপাড়া, জামালপুর, তাহেরপুর, জাফর নগর, ভাদুর, রাঘবপুর, পৌর কলচমা ও নরিমপুর গ্রামে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন ই-মেইল পাঠানো হলেও কার্যকর ভূমিকা নেয়া হচ্ছে না।

চাটমোহর (পাবনা) : পাবনার চাটমোহরে গত ৭ দিনে এক নারীসহ ৬ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ডেঙ্গুর আতঙ্ক’। তবে আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকাতে অবস্থান করতেন। আক্রান্তরা হলেন, পৌর শহরের বালুচর মহলস্নার বাসিন্দা রেজাউল করিম দুলাল সরকারের স্ত্রী অলিভা খাতুন, প্রভাকরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম ছাড়াও অন্তর আলী, আল আমিন, লিটন হোসেন এবং শাহিন হোসেন। গত ২৬ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর): পার্বতীপুরে আশঙ্কাজনকভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ৭ ব্যক্তি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সকালে আরও দুজনকে ডেঙ্গু রোগী সন্দেহে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তরা হলেন- শেরপুর (ভেমটিয়া) গ্রামের পলাশ সরকার (১৭), রামরায়পুর চৌধুরীপাড়ার সুরবালা (৬০), গুলশান নগর মহলস্নার রনিৎ প্রসাদ সোনার (১৭), আরাফাত হোসেন (৯), আসাদ আলী (৩৮), হেলাল হোসেন (২১) ও মাসুমা (২০)।

লাখাই (হবিগঞ্জ): ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম (৩৫)। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। আলেয়া বেগম উপজেলার মুড়াকরি গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার স্ত্রী।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর): জামালপুরের বকশীগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুজ্বর। গত চার দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স কর্তৃপক্ষ ৫ জন রোগী শনাক্ত করেছে। যাদের শনাক্ত করা হয়েছে তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। রোগীরা হলেন সাব্বির আহমেদ (২০), রাসেল মিয়া (২৪), রবিউল ইসলাম (২০), বিপুল মিয়া (২৬), রিয়াজুল ইসলাম ৩৫)।

যশোর: যশোর জেলায় নতুন আরও ১৪জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে জেলায় আক্রান্ত রোগী বেড়ে দাঁড়াল ১৪৮ জনে। বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ৬৮জন। সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। যশোরের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ইমদাদুল হক রাজু বলেন, শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে শুক্রবার নতুন আক্রান্ত রোগী ছিল ১৯ জন।

সাঁথিয়া (পাবনা): ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত ও পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে। এতে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ পর্যন্ত সাঁথিয়া হাসপাতালে ৩ জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুবহন করে নিয়ে এসেছে। এদের সবাই সুস্থ হয়ে বাসায় চলে গেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২শ রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে অনেকেই আসেন জ্বর নিয়ে। কিন্তু ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার জন্য এনএসওয়ান, অ্যান্টিবডি আইজিএম, এইচসিটি এবং সিবিসি কমপিস্নট বস্নাড কাউন্ট পরীক্ষার কোনোটিই হয় না এখানে।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা