হাইতির শিশুরা সত্যিই মাটির বিস্কুট খাচ্ছে !

ক্ষুধার জ্বালা কতটুকু হলে মাটি খাওয়া যায়?

আমরা যারা এই মুহূর্তে কম্পিউটার, মোবাইল বা যে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে চোখ রেখে এই লেখা পড়ছি তাদের কারোরই সম্ভবত বিষয়টি নিয়ে ধারণা নেই।

এমনই এক পৃথিবী আমরা তৈরি করেছি যেখানে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ যখন শত শত খাবার নষ্ট করছে, তখন আরেক প্রান্তের মানুষ ক্ষুধা নিবারনের জন্য আয়োজন করে মাটির সঙ্গে লবন মিশিয়ে তা রোদে শুকিয়ে বিস্কিট বানিয়ে সংরক্ষণ করছে। প্রচণ্ড ক্ষুধায় সেই মাটির তৈরি অস্বাস্থ্যকর বিস্কুটই তাদের পেট ভরাচ্ছে।

বলছি হাইতির কথা। যে দেশটির বেশিরভাগ মানুষের দৈনিক মাথাপিছু আয় দুই ডলারেরও কম। সেই দেশের মানুষের কাছে ফল-মূলসহ যে কোনো পুষ্টিকর খাবার স্রেফ স্বপ্ন। পেট ভরানোই যেখানে কষ্টকর সেখানে পুষ্টির জোগান আসবে কোথা থেকে?

সেই দেশের একটা শ্রেণির মানুষ তাই পেট ভরাতে খান মাটির বিস্কুট। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই পেট ভরাচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি এই বিস্কুট। হাইতিতে বেশ সহজলভ্যও এটি। বাজারের অন্য সব সামগ্রীর মতো এই বিস্কুটও বিক্রি হয় ঝুড়িভরে।

এই বিস্কুট তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ।

মূলত হাইতির মধ্য প্লাতেও এলাকায় পাওয়া যাওয়া হলুদ মাটি দিয়েই তৈরি হয় এই বিস্কুট। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির গর্ভবতী নারীদের এই হলুদ মাটি খাওয়ানো হতো। বলা হতো এতে আছে ক্যালসিয়াম। সেই মাটির সঙ্গেই ভেজিটেবল তেল আর লবন মিশিয়ে তৈরি করা হয় একটি মসৃণ মিশ্রণ। সেই মিশ্রণ চামচের সাহায্যে পাতলা করে বিছিয়ে দেওয়া হয় গোলাকৃতিতে। তারপর শুকানো হয় কড়া রোদে। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলেই খাওয়ার জন্য প্রস্তুত মাটির বিস্কুট।

এতে কোনো পুষ্টিমান থাকুক আর না থাকুক পেট ভরাতে এর বিকল্প নেই। তাই ওই মাটিতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না, এটা খেলে শারীরিক কোনো সমস্যা হবে কি না এসব ভাবেন না হাইতির হতদরিদ্র মানুষ। তাদের উদ্দেশ্য পেট ভরানো। আর সেটা যেভাবেই হোক না কেন।

সাদাচোখে মাটি খাওয়ার তো অনেক অপকারিতা আছেই তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে মাটিতে মিশে থাকা নানান ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। তার চেয়েও বড় কথা, এই বিস্কুট উচ্চ মাত্রার অপুষ্টির কারণ হতে পারে।

বেশ কয়েক বছর আগে এনবিসি নিউজের একজন প্রতিবেদন প্রতিবেদন তৈরির সময় খেয়ে দেখেছিলেন এই বিস্কুট। তিনি লিখেছেন, মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি গলে যায়। কিন্তু একটা দীর্ঘসময় শরীর ও জিহ্বায় অস্বস্তিকর অনুভূতি লেগে থাকে।

অথচ ক্ষুধার জ্বালা আর পেট ভরানোর তাড়নায় সেই মাটিই নির্বিঘ্নে খেয়ে চলেছেন হাইতির দরিদ্র মানুষেরা। ভবিষ্যতে কী হবে না হবে তা ভাবলে কী আর পেট ভরবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here